কে এই অরুন? কি আছে তার হাসিতে?
স্বচ্ছ নিউজ ডেস্কঃ
কথায় আছে, 'হাসি মানুষের মনের খোরাক'। কিন্তু একটি নির্মল হাসি যে কারো ভাগ্যরেখা পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ তরুণ যুবক অরুণ। অভাবের তাড়নায় যার হাতে কলমের বদলে ওঠার কথা ছিল ট্রাকের যন্ত্রাংশ, আজ সেই অরুণের চোখে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন।
যেভাবে শুরু:
পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে খুব অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল অরুণকে। জীবিকার তাগিদে যোগ দিয়েছিলেন ট্রাকের হেলপার হিসেবে। দিনরাত ট্রাকের ধুলোবালি আর কঠোর পরিশ্রমই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তবে পরিশ্রমের মাঝেও অরুণের প্রাণখোলা স্বভাব আপন করে নিয়েছিল ট্রাক চালক মেহেরু আন্নাকে।
ভাইরাল সেই মুহূর্ত:
ঘটনাটি ছিল একটি সাধারণ দিনের মতো। ট্রাক পরিষ্কার করার পর ক্লান্ত অরুণের হাতে এক কাপ চা তুলে দেন চালক মেহেরু আন্না। চা খাওয়ার ফাঁকে আন্না তাকে একটি মজার জোকস শোনান। সেই জোকস শুনে অরুণের অকৃত্রিম আর বাঁধভাঙ্গা হাসির মুহূর্তটি আন্না নিজের মোবাইলে ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন।
মুহূর্তের মধ্যেই সেই মায়াবী হাসি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে নেয়। ইন্টারনেটের কল্যাণে অরুণের পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
সরকারের উদ্যোগ ও নতুন জীবন:
ভাইরাল এই হাসির পেছনের কষ্টের গল্পটি যখন রাজ্য সরকারের নজরে আসে, তখন অরুণের জীবনে আসে আমূল পরিবর্তন। সরকারি সহযোগিতায় ট্রাকের হেলপারী ছেড়ে অরুণ আবার ফিরে পায় তার হারিয়ে যাওয়া বিদ্যাপীঠ। ট্রাকের চাকা ছেড়ে তার হাতে আবার উঠে আসে বই-খাতা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
অরুণ বর্তমানে পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। আগামী বছর তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। অরুণের স্বপ্ন, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে একজন সফল মানুষ হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করা। তবে জীবনের এই নতুন মোড়ে এসেও সে ভুলে যায়নি তার দুর্দিনের কান্ডারি মেহেরু আন্নাকে। অরুণ চায়, তার আগামীর সুন্দর কর্মজীবনেও ছায়ার মতো পাশে থাকুক তার সেই প্রিয় ওস্তাদ।
অরুণের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, সঠিক সুযোগ আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যদি এভাবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক হয়, তবেই তার সার্থকতা।
.jpg)
No comments